শিলিগুড়ি, ২৯ অক্টোবরঃ একদিকে রেলের জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ, অন্যদিকে কয়েক দশকের জীবিকা হারানোর আশঙ্কা। এই দুইয়ের টানাপড়েনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ি রেলওয়ে জংশন এলাকায়। এনএফ রেলের কাটিহার ডিভিশনের তরফে জারি করা নোটিসে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তাতেই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এলাকার ছোট-বড় প্রায় ২০০ জন দোকানদার। বৃহস্পতিবার দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদে শামিল হন চায়ের দোকানের মালিক থেকে ঠেলা ব্যবসায়ী সকলেই।
রেলের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা রেলের জমি দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। সেই জমি দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যেই নোটিস জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান না সরালে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু রেলের এই সিদ্ধান্তে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানগুলিই তাঁদের সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন। হঠাৎ দোকান উঠে গেলে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তার প্রভাব পড়বে পরিবারের সদস্যদের উপরেও।
ব্যবসায়ীদের দাবি, রেলের উন্নয়নমূলক কাজের বিরোধিতা করছেন না তাঁরা। কিন্তু দোকান সরানোর আগে বিকল্প জায়গা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু দোকানদাররাই নন, তাঁদের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলিও আর্থিক সঙ্কটে পড়বে। তাই উচ্ছেদের আগে জীবিকা সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা করা জরুরি।
এই দাবিতেই বৃহস্পতিবার জংশন এলাকার দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে প্রায় ২০০টি পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে ব্যবসার জায়গা খুঁজে নেওয়াও সহজ নয়।
সমস্যার সমাধান চেয়ে কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএমের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এবার স্থানীয় বিধায়ক ও মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রেলের নোটিস ঘিরে এখন একটাই প্রশ্ন দোকান সরানোর আগে বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা হবে কি? নাকি ১৫ দিনের সময়সীমা পেরোলেই উচ্ছেদের মুখে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের? আপাতত সেই উত্তরের অপেক্ষায় শিলিগুড়ি জংশনের দোকানদাররা। তাঁদের দাবি, উন্নয়ন হোক, তবে জীবিকা হারিয়ে নয়।





