কোচবিহার, ২৯ অক্টোবরঃ পঞ্চাশ বছরের পথচলা। সেই দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতি, আবেগ আর ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই এ বার কালীপুজোয় বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে রামকৃষ্ণ ক্লাব ও পাঠাগার। সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে পুজোর মূল ভাবনায় উঠে এসেছে এক অভিনব উপলব্ধি ‘মায়ের সংসারে সবাই পুতুল’। এই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই সাজবে মণ্ডপ। সঙ্গে প্রায় ৫০০ মিটার রাস্তা জুড়ে আলপনা দেওয়ার পরিকল্পনা। সব মিলিয়ে পঞ্চাশ বছরের উদ্যাপনকে স্মরণীয় করে তুলতে এখন থেকেই ব্যস্ত ক্লাবের সদস্যরা।
সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের কালীপুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। আনুষ্ঠানিক ভাবে পুজোর সূচনা উপলক্ষে আয়োজন করা হয় খুঁটিপুজোর। তার পর থেকেই মণ্ডপ নির্মাণ, সাজসজ্জা এবং থিমের পরিকল্পনা নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। এ বছরের পুজোর বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।
এ বারের থিমের নামেই রয়েছে পুজোর মূল বার্তা। ‘মায়ের সংসারে সবাই পুতুল’এই ভাবনা যেন মনে করিয়ে দেয়, বৃহত্তর জীবনের পরিসরে মানুষ সকলেই কোনও না কোনও ভাবে এক অদৃশ্য নিয়তির সুতোয় বাঁধা। মা কালীর সংসারে প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব ভূমিকা। সেই ভাবনাকে শিল্পের ভাষায় মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন উদ্যোক্তারা। থিমের উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের কতটা আকর্ষণ করে, এখন সেটাই দেখার।
তবে শুধু মণ্ডপের থিমেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজন। পুজোর সৌন্দর্য বাড়াতে প্রায় ৫০০ মিটার রাস্তা জুড়ে আলপনা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। রাস্তার উপর ছন্দময় নকশা, রঙের বিন্যাস আর উৎসবের আবহ সব মিলিয়ে পুজো প্রাঙ্গণকে অন্য রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পথের সাজও হয়ে উঠতে পারে এ বারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।
একটি ক্লাব ও পাঠাগারের কাছে সুবর্ণজয়ন্তী শুধু একটি সংখ্যার উদ্যাপন নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগসূত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি ফিরে দেখার উপলক্ষও। সেই বিশেষ মুহূর্তকে সামনে রেখেই এ বারের কালীপুজোকে অন্য মাত্রা দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
এখনও বাকি মণ্ডপসজ্জার কাজ, থিমের চূড়ান্ত রূপ এবং আলপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তবে প্রস্তুতির শুরুতেই পুজোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সুবর্ণজয়ন্তীর আবেগ, অভিনব থিম আর রাস্তা জুড়ে আলপনার পরিকল্পনা—এই তিনের মেলবন্ধনে রামকৃষ্ণ ক্লাব ও পাঠাগারের এ বারের কালীপুজো কোচবিহারের উৎসবের মানচিত্রে কতটা স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে, সে দিকেই নজর থাকবে দর্শনার্থীদের।





