মাথাভাঙা, ২৮ অক্টোবরঃ অনলাইন লেনদেনের অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার পর গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাথাভাঙায়। বুধবার মাথাভাঙার ঝংকার ক্লাবের একটি ক্যাফে থেকে ওই যুবককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় মাথাভাঙা থানার পুলিশ।
অভিযোগকারী পেশায় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ, বহুল ব্যবহৃত একটি অনলাইন লেনদেনের অ্যাপের মাধ্যমে তাঁকে ঋণ পাইয়ে দিয়েছিলেন ওই যুবক। ঋণের প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর মোবাইল থেকে ওটিপি নেওয়া হয়। এর পর ইউপিআইয়ের মাধ্যমে একাধিক লেনদেন করে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২৮ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পুজোর আগে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা কেটে নেওয়ার বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে ওই ব্যবসায়ীর। বিষয়টি বুঝতে না পেরে তিনি ব্যাঙ্কে যান। সেখানে অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করার পর তাঁর সন্দেহ আরও বাড়ে। স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখে তিনি জানতে পারেন, অ্যাকাউন্ট থেকে মোট প্রায় ২৮ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এর পর থেকেই অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু বারবার ফোন করা সত্ত্বেও যুবক ফোন ধরতেন না বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বুধবার মাথাভাঙার ঝংকার ক্লাবের একটি ক্যাফেতে তাঁকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সাহায্যে আটক করা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আধিকারিকেরা এসে তাঁকে থানায় নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কী ভাবে ওই টাকা লেনদেন করা হয়েছিল, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অনলাইন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে মোবাইলের ওটিপি, ইউপিআই পিন বা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য অন্যের হাতে তুলে দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কোনও সন্দেহজনক লেনদেন নজরে এলে দ্রুত ব্যাঙ্ক ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।





