কোচবিহার, ৯ অক্টোবরঃ বিজ্ঞানের পাঠ শুধু বইয়ের পাতায় আটকে থাকুক, তা চায় না নতুন প্রজন্ম। প্রশ্ন, পর্যবেক্ষণ আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে অজানাকে জানার আগ্রহই বিজ্ঞানের আসল চালিকাশক্তি। সেই অনুসন্ধিৎসাকে সামনে রেখেই কোচবিহার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেস ২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের কর্মসূচি। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২০০-রও বেশি পড়ুয়া নিজেদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
খুদে বিজ্ঞানীদের নানা ভাবনা, নতুন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান এবং সমস্যা সমাধানের অভিনব প্রচেষ্টায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। পড়ুয়াদের প্রকল্পের মধ্য দিয়ে উঠে আসে বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে চারপাশের নানা বিষয় বোঝার আগ্রহ। পাঠ্যবইয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ করে দেওয়াই এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের মতে, ছোট থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি করা জরুরি। শুধু তথ্য মুখস্থ করা নয়, কোনও ঘটনার পিছনে থাকা কারণ খুঁজে দেখা, প্রশ্ন করা এবং যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অভ্যাস গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসের মতো মঞ্চ পড়ুয়াদের সেই সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি নিজেদের কাজ অন্যদের সামনে তুলে ধরা, মত বিনিময় করা এবং নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতাও অর্জন করে তারা।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা), ডিআই অফ স্কুলস, বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপা চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বেড়ে ওঠে। বিজ্ঞানচর্চায় ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা উদ্যোক্তাদের।
প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে আগামী প্রজন্মের কাছে অনুসন্ধিৎসা এবং যুক্তিবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। কোচবিহারের এই জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞান কংগ্রেস তাই শুধু প্রকল্প প্রদর্শনের মঞ্চ নয়, বরং নতুন ভাবনা ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার এক প্রয়াস। খুদে বিজ্ঞানীদের হাত ধরেই আগামী দিনে আরও নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের পথ তৈরি হবে এমনই প্রত্যাশা।





