মালদা, ২৮ এপ্রিলঃ মালদা জেলায় গণনাকেন্দ্রে এক ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস প্রসুন ব্যানার্জী-কে স্যালুট করতে দেখা গেল এক পুলিশ আধিকারিককে। ঘটনাটি সামনে আসতেই বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে, যদিও তৃণমূলের দাবি এটি নিছক সৌজন্যতা।
জানা গিয়েছে, প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পর থেকেই মালদার দুটি গণনাকেন্দ্রে স্ট্রংরুমে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে ইভিএম। মালদা কলেজ-এ পাঁচটি বিধানসভার এবং মালদা পলিটেকনিক কলেজ-এ সাতটি বিধানসভার ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে। এদিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণনা সংক্রান্ত নিয়মাবলী নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
সেই বৈঠকে যোগ দিতে মালদা কলেজে পৌঁছন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রবেশ করার পর পুলিশ সুপারের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায় তাঁকে স্যালুট করেন বলে জানা যায়। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের সূত্রপাত।
বিজেপির অভিযোগ, এই ঘটনা প্রমাণ করে কীভাবে রাজ্যের শাসকদল পুলিশ প্রশাসনকে প্রভাবিত করছে। দলের দক্ষিণ মালদা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শাসকদলের প্রার্থীকে এভাবে স্যালুট করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রাক্তন আইপিএস হওয়ায় এটি কেবলমাত্র পেশাগত সৌজন্য। দলের জেলা মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, “আইপিএসদের মধ্যে একটি প্রোটোকল ও সৌজন্যতা থাকে। সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে মালদার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন যেমন উঠছে, তেমনই পাল্টা ব্যাখ্যাও সামনে আসছে শাসকদলের তরফে।





