ডায়মন্ড হারবার, ১৭ ফেব্রুয়ারিঃ দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা তরুণ কমরেড প্রতীক উর রহমান-কে ঘিরে। শোনা যাচ্ছে, তিনি সিপিএমের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছেদ করে শাসকদল তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই জল্পনা ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে।
সোমবার আচমকাই তাঁর একটি ইস্তফাপত্র প্রকাশ্যে আসে। সেই চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। চিঠিতে প্রতীক উর লেখেন, দলের কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে তিনি মানসিক যন্ত্রণায় রয়েছেন। তাই জেলা ও রাজ্য কমিটি-সহ দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে এক সংবাদমাধ্যমে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর ব্যক্তিগত চিঠি কীভাবে প্রকাশ্যে এল, সেই প্রশ্নের জবাব দলকেই দিতে হবে।
এই ঘটনার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়, তবে কি তিনি ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন? রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহেই তিনি সর্ব ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। এমনকি শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কার্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল বা প্রতীক উর-কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেন নি।
আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে বলেও কানাঘুষো চলছে। কোন আসনে তিনি লড়তে পারেন, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মগরাহাট পূর্ব বা মগরাহাট পশ্চিম-এই দুই কেন্দ্রের কোনও একটিতে প্রার্থী করা হতে পারে তাঁকে। বর্তমানে ওই দুই কেন্দ্রের বিধায়ক যথাক্রমে নমিতা সাহা ও গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। ফলে প্রতীক উরকে প্রার্থী করা হলে সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবারের এই তরুণ নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্ক দ্রুত বদলাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, সেটাই এখন দেখার।





