শিলিগুড়ি, ২৭ জুলাইঃ সিকিমের টানেল দুর্ঘটনার শোকের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল রাজ্য সরকার। সোমবার জলপাইগুড়ার মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, প্রতিটি পরিবারকে ২১ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দেওয়া হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে আসারও আহ্বান জানালেন তিনি।
সিকিমের টানেলে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা, সিকিম সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল মিলিয়ে আরও ৬ লক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তরফে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিবারপিছু ২১ লক্ষ টাকার সহায়তা মিলবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নিহত সাত জনের পরিবারের সদস্যদের হোমগার্ড পদে এবং চার জনকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবি, ঘটনার পর থেকেই সিকিম সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। ভারতীয় সেনা, সিকিম প্রশাসন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
এই আবহেই পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পেটের দায়ে আর ভিনরাজ্যে ঝুঁকি নেবেন না। বাংলায় ফিরুন। শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।” তাঁর দাবি, মাত্র ১০ সপ্তাহের সরকার ইতিমধ্যেই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
উত্তরবঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, দুগ্ধশিল্প এবং বন্ধ চা বাগান পুনরুজ্জীবনের একাধিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি জানান, অবিন্যস্ত শ্রমিকদের জন্য বছরে ১২৫ দিনের কাজ, বর্ধিত বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা, উন্নতমানের রেশন এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর পাশাপাশি ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’ চালু করা হচ্ছে।
শোকের মুহূর্তে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েই উত্তরবঙ্গে সরকারের উন্নয়ন-বার্তা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।





