কলকাতা, ৬ অক্টোবরঃ তৃণমূলে ভাঙন। একের পর এক নেতার দলবদল। আর সেই আবহেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান সিপিএমের যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধরের। সোমবার কলেজ স্ট্রিটে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাঁর মন্তব্য, ‘‘অনুরোধ করব, আপনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসুন। এতগুলো মানুষ তো আপনাকেই ভরসা করেছিল।’’
দীপ্সিতার বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণও। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী অবস্থান থেকে সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে ৮০টি আসনে জিতিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তৃণমূলের বড় অংশ বিজেপিতে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার ঘনিষ্ঠ কিছু নেতা এখনও দলে থাকলেও তাঁরা সাধারণ মানুষের ইস্যু নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না বলেও কটাক্ষ করেন সিপিএম নেত্রী।
দীপ্সিতার কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ বিজেপি বিরোধী হিসেবে ৮০টা আসনে তৃণমূলকে জিতিয়েছিল। কিন্তু দেখলাম, তৃণমূল প্রায় পুরোটাই বিজেপিতে মিশে গেল। টিমটিম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লয়ালিস্ট কিছুজন বেঁচে রয়েছেন।’’
এই পরিস্থিতিতে বামেদের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, বামপন্থীরা প্রথম দিন থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামেদের কোনও ভাবে রাজনৈতিক সুবিধা করে দিচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্নে সরাসরি হ্যাঁ বা না-তে যেতে চাননি দীপ্সিতা।
বরং তৃণমূলের ভাঙনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে গিয়েছে, তাতে আমি ব্যক্তিগত ভাবে আনন্দ পাইনি। যদিও আমি খুশি যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী নন।’’
তৃণমূলের ভাঙনকে বিজেপির ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল’ বলেও আক্রমণ করেছেন দীপ্সিতা। মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তাঁর অভিযোগ, যে রাজনৈতিক দলগুলিকে ভোটে হারানো সম্ভব হচ্ছে না, তাদের ভিতর থেকেই নেতাদের ভাঙিয়ে বিরোধী পরিসর দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
এই বক্তব্যের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে। কারণ, কয়েক দিন আগেই বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে সিপিএমকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে যোগাযোগের সেই পর্বের পরেই দীপ্সিতার মুখে মমতাকে ‘প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে’ ফেরার ডাক।
তবে দীপ্সিতার বার্তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন তৃণমূলের ভাঙনে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা কি শেষ পর্যন্ত বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেবে? নাকি বিজেপি-বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের দরজা খুলবে মমতা-বাম যোগাযোগ ?



