কলকাতা, ৯ অক্টোবরঃ রাজনীতির মঞ্চে ফের প্রত্যাবর্তন কোয়েল মল্লিকের। তবে এবার আর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বিজেপির প্রার্থী হয়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন টলিউডের অভিনেত্রী। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার মাস কয়েকের মধ্যেই ফের সংসদের উচ্চকক্ষে তাঁর প্রত্যাবর্তন। শুক্রবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন কোয়েল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ভোট হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় তার আর প্রয়োজন পড়ল না। এ দিনই বিধানসভার সচিবের কাছ থেকে জয়ের শংসাপত্র পেয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যসভার চারটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার এবং মেনকা গুরুস্বামী। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ছবিটা বদলে যায়। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরে জুলাই মাসে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল। ফলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যসভার সঙ্গে তাঁর প্রথম পর্বের সম্পর্কের ইতি ঘটে।
এর পরেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেই জল্পনা আরও বাড়ে। অবশেষে ৪ অক্টোবর রাজ্যসভার উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে কোয়েলের নাম ঘোষণা করা হয়। পরের দিনই বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে পদ্ম-পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নও জমা দেন।
মনোনয়ন জমার শেষ দিন, শুক্রবার, কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত হয় তাঁর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কোয়েল জানিয়েছিলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। এ বার বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে সেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে চলেছেন অভিনেত্রী।
তবে সাংসদ হিসেবে তাঁর প্রথম দফায় সংসদে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে রাজ্যসভায় গিয়ে তিনি কী ভূমিকা নেন, নজর থাকবে সে দিকেই। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলের দিন কোয়েলের জয় বিজেপির কাছে বাড়তি রাজনৈতিক তাৎপর্যও বহন করছে।





