কলকাতা, ১২ অক্টোবরঃ রাজ্যে সরকার বদলের পরে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে রাজ্য পুলিশের নিয়োগকে সামনে রেখেই কর্মসংস্থানের বার্তা দিতে চাইল নতুন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়ার জট কাটিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে ১১ হাজার পুলিশকর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার ঘটনাকে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা হিসাবেও তুলে ধরলেন শুভেন্দু।
নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল কৃতিত্বের প্রশ্নও। তাঁর কথায়, “হাততালি চাই না, ক্রেডিট চাই না। শুধু বলতে চাই, সরকার পরিবর্তন না হলে এই নিয়োগ হত না।” অর্থাৎ, নিয়োগপত্র বিলির অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিজের সরকারের কাজের দিকটিই সামনে রাখতে চাইলেন তিনি। রাজ্যে নতুন সরকারের আমলে সরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগের সূচনা হিসাবে এই পদক্ষেপকে তুলে ধরে শুভেন্দুর সংক্ষিপ্ত বার্তা, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’।
তবে শুধু নিয়োগপত্র বিলি নয়, পুলিশের কাজের ধরন নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ প্রশাসনের প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যদের সততা ও দায়িত্বশীলতার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছে সেই বার্তা কতটা পৌঁছয়, তা অবশ্য নির্ভর করবে আগামী দিনে প্রশাসনিক কাজের উপরেই।
এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের বাহিনীর আকার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগামী দু’বছরের মধ্যে পুলিশকর্মীর সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশকে ছাপিয়ে যাবে বাংলা। যদিও সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে কত নিয়োগ প্রয়োজন, তার সময়সীমা ও বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা বাকি।
দেবীপক্ষের আগে ১১ হাজার নিয়োগপত্র বিলি নতুন সরকারের কাছে এটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণের সূচনা হিসাবে তুলে ধরার সুযোগ। এখন নজর, পুলিশের এই নিয়োগের পর রাজ্যের অন্যান্য সরকারি দফতরেও নিয়োগের গতি কতটা বাড়ে।





