খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ ভরা মঞ্চে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের হাতে হিজাব টেনে নামানোর ঘটনার পর এবার নতুন মোড় নিল বিতর্ক। ওই ঘটনার কেন্দ্রে থাকা তরুণী চিকিৎসক শেষ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেন না। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ছিল তাঁর চাকরিতে যোগদানের শেষ দিন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তিনি কাজে যোগ দেননি।
ওই তরুণী চিকিৎসকের নাম নুসরাত পারভিন। বিহারের পাটনা সদরের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক চিকিৎসক জানান, “শনিবার যোগদানের শেষ দিন ছিল। পাঁচ-ছ’জন নতুন চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন। কিন্তু নুসরাত পারভিন আসেননি। কেন তিনি যোগ দিলেন না, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।” এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে ওই তরুণী চিকিৎসক বা তাঁর পরিবারের তরফে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার পাটনায় আয়োজিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে আয়ুষ বিভাগের ১,২৮৩ জন চিকিৎসকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাসিমুখে নীতীশ কুমার ওই তরুণী চিকিৎসকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিচ্ছেন। তবে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী আচমকা তরুণীর হিজাব টেনে নামিয়ে দেন। ঘটনায় হতচকিত হয়ে যান ওই তরুণী চিকিৎসক। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান।
যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা সংবাদ সংস্থা কিংবা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি, তবুও সমাজমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন সকলেই ঘটনাটিকে নারীর মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর আঘাত বলে অভিহিত করেন।
এই ঘটনায় বিহারের শাসকদলের শরিকরাও অস্বস্তিতে পড়ে। কংগ্রেস ও আরজেডি প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের তীব্র নিন্দা করে। বিরোধীদের দাবি, একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যদিও ঘটনার পর নীতীশ কুমার বা রাজ্য সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চাকরিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ওই তরুণী চিকিৎসকের নীরব প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও তিনি নিজে বা তাঁর পরিবার এখনও মুখ না খুললেও, এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ককে উসকে দিল। প্রশ্ন উঠছে, একজন তরুণী চিকিৎসকের কর্মজীবনের শুরুতেই এমন ঘটনার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। একইসঙ্গে, শাসক ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল বিহার সরকার।





