উত্তর ২৪ পরগনা, ২৭ মেঃ উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে গত দু’দিন ধরে ক্রমশ বাড়ছে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাওয়া মানুষের ভিড়। রাজ্য সরকারের ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। আপাতত কাউকেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে তাঁদের পরিচয়পত্র ও তথ্য যাচাই করছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, স্বরূপনগরের চারঘাট ও মেদিয়া এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। সেখানে শতাধিক মানুষকে রাখা হয়েছে। যাঁরা নিজেদের বাংলাদেশি বলে দাবি করছেন এবং ভারতে বসবাসের জন্য আধার, রেশন, প্যান কিংবা ভোটার কার্ড তৈরি করেছিলেন, তাঁদের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর বিএসএফের মাধ্যমে বিজিবি-র সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সীমান্ত সংলগ্ন দুটি অসম্পূর্ণ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বহু পরিবার ব্যাগপত্তর নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে, কেউ আবার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সেখানে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে ভারতে আর থাকা সম্ভব হবে না বুঝেই তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
খুলনার বাসিন্দা বাচ্চু মুন্সি নামে এক ব্যক্তি জানান, ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন দমদম এলাকায় বসবাস করেছেন। পরে আধার, রেশন, ভোটার-সহ বিভিন্ন নথিও তৈরি করেছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। কিন্তু সম্প্রতি নাম বাদ যাওয়ার পর থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাই পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে, যশোরের এক বৃদ্ধ জানান, চার বছর আগে দালালের সাহায্যে চোরাপথে ভারতে এসেছিলেন। জনপ্রতি সাত হাজার টাকা করে দালাল নিয়েছিল বলেও অভিযোগ। দুর্গানগর এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। তবে কোনও ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেননি বলে দাবি তাঁর পরিবারের। সরকারি বিধিনিষেধের পর তাঁরাও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকের পরিচয় ও নাগরিকত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। যাতে কোনও ভারতীয় নাগরিক ভুলবশত বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অশোকনগর-হাবরা এলাকা থেকে ধরা পড়া ৫৪ জনকে মেদিয়া ক্যাম্পে রাখা হয়েছে বলে খবর। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ, বিএসএফ ও জেলা প্রশাসন।


