কলকাতা, ২৫ জুলাইঃ কালিগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মন খুনের ঘটনা থেকে শুরু করে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তি প্রিজন ভ্যানে তোলার ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে বড় পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একের পর এক বিতর্কিত ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ডের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশের কোনও পদক্ষেপ যেন সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি বা গণবিশ্বাসে আঘাত না করে। বিশেষ করে মা কালীর মূর্তি যেভাবে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে, তা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, পুলিশ যদি নিজের সীমা অতিক্রম করে, তবে কোনও পরিস্থিতিতেই তা বরদাস্ত করা হবে না।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মিললে আরও পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী শিবির অবশ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েই বড় প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি, বর্তমান সরকার কোনও ধর্মীয় অনুভূতি বা সাধারণ মানুষের অধিকারের সঙ্গে আপস করবে না।
মূর্তি সংক্রান্ত ঘটনা এবং কালিগঞ্জের খুনের তদন্ত দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসনের ভূমিকা এখন নজরে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর পুলিশ বিভাগে দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহির প্রশ্ন আরও একবার সামনে চলে এল।





