ফুলবাড়ি, ৬ আগস্টঃ রাস্তা নয়, যেন মৃত্যুফাঁদ। উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ফুলবাড়ি-ঘোষপুকুর বাইপাসের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে প্রতিদিন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে রাস্তার বিভিন্ন অংশ জুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দূরপাল্লার পণ্যবাহী লরির চালকেরা। গর্তে পড়ে মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে যাচ্ছে ট্রাক, আর তার জেরেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের মুখে পড়তে হচ্ছে হাজার হাজার যানবাহনকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার মাঝখানে একাধিক গভীর গর্ত তৈরি হলেও তা মেরামতের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ভারী যানবাহন গর্তে পড়ে যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক সময় রাস্তার উপরই দাঁড়িয়ে পড়ছে ট্রাক। তার ফলে দ্রুতই কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। শুধু চালকরাই নন, নিত্যযাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এই বাইপাস একসময় টোলের আওতায় ছিল। স্থানীয়দের দাবি, টোল প্লাজা চালু থাকাকালীন রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত হত। কিন্তু টোল বন্ধ হওয়ার পর থেকেই রাস্তার অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে গিয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে রক্ষণাবেক্ষণে কার্যত কোনও নজর নেই বলেই অভিযোগ।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই রাস্তার টোল প্লাজা বন্ধ করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসজেডিএ-র অধীনস্থ ওই টোল প্লাজা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জি। কিন্তু টোল বন্ধ হওয়ার পর রাস্তার সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে নেবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, দিনের পর দিন যানজটে আটকে থাকলেও দূরপাল্লার লরি চালকদের খোঁজ নিতে বা তাঁদের সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে খাবার, পানীয় জল এমনকি বিশ্রামেরও সমস্যায় পড়ছেন বহু চালক।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার মরসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গর্তে জল জমে থাকায় কোথায় কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা বোঝাই যায় না। তাই দ্রুত রাস্তার সংস্কার, গর্ত মেরামত এবং যানজট নিরসনে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বাসিন্দা ও পরিবহণকর্মীরা। তাঁদের কথায়, আর দেরি হলে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক আরও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।





