শীতলকুচি, ২৯ আগস্ট: এক হাতে প্ল্যাকার্ড, অন্য হাতে পোস্টার। কারও হাতে লেখা ‘মাদককে না বলুন’, কারও বার্তা ‘মাদক নয়, সুস্থ ও সুন্দর জীবন’। শনিবার শীতলকুচির রাস্তায় এমনই দৃশ্য দেখা গেল। স্কুলের চৌহদ্দি পেরিয়ে সচেতনতার সেই বার্তা পৌঁছে গেল বাজারের ব্যস্ত চৌপথিতেও। উদ্দেশ্য একটাই মাদকের অন্ধকার থেকে দূরে রাখা সমাজকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে।
শীতলকুচি গোপীনাথ উচ্চতর বিদ্যালয়ের হলঘরে এদিন আয়োজিত হয় মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি। সেখানে পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের সামনে মাদকাসক্তির ভয়াবহতা এবং তার সামাজিক অভিঘাত তুলে ধরা হয়। বক্তাদের কথায় উঠে আসে একটি বাস্তবতা মাদক শুধু একজন মানুষের শরীর বা ভবিষ্যৎ নষ্ট করে না, তার অভিঘাত পৌঁছে যায় গোটা পরিবারে। ভেঙে যায় সম্পর্ক, হারিয়ে যায় পড়াশোনা ও কর্মজীবনের স্বপ্ন, বাড়ে অপরাধপ্রবণতার আশঙ্কাও।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাথাভাঙার এসডিপিও সমরেন হালদার, শীতলকুচি থানার ওসি নকুল রায়-সহ পুলিশের আধিকারিকেরা। তাঁদের বক্তব্যে ছিল তরুণদের প্রতি বিশেষ আবেদন কৌতূহল বা বন্ধুত্বের চাপে কোনও ভাবেই যেন মাদকের ফাঁদে পা না বাড়ে। কারণ এক বার সেই পথে গেলে ফিরে আসার লড়াই অনেক কঠিন।
সচেতনতা সভার পর গোপীনাথ হাই স্কুল থেকেই শুরু হয় মাদকবিরোধী র্যালি। স্কুলের গণ্ডি ছেড়ে শীতলকুচির রাস্তায় নামেন অংশগ্রহণকারীরা। পোস্টার-প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পথ। গোপীনাথ স্কুল থেকে শীতলকুচি বাজার চৌপথি পর্যন্ত র্যালির প্রতিটি পদক্ষেপ যেন একটি বার্তাই বহন করছিল মাদককে প্রতিরোধ করতে হবে সমাজের ভিতর থেকেই।
কারণ মাদকবিরোধী লড়াই শুধু পুলিশের অভিযান দিয়ে শেষ হয় না। পরিবার, স্কুল, সমাজ এবং প্রশাসন সব পক্ষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হয়। সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাই মনে করিয়ে দিল শীতলকুচির এই কর্মসূচি।
একটি পোস্টার হয়তো রাতারাতি বদলে দিতে পারে না কোনও জীবন। কিন্তু সেই পোস্টার দেখে কোনও এক তরুণ যদি থমকে দাঁড়ায়, ভুল পথে যাওয়ার আগে এক বার ভাবে তাহলেই হয়তো এই সচেতনতার র্যালির সার্থকতা।





