কলকাতা, ২৯ আগস্ট: রাজনীতি যখন রাজপথে নামে, তখন তার অভিঘাত গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনেও। শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে সেই ছবিই ফের সামনে এল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
হাই কোর্টের নির্দেশ ছিল স্পষ্ট ক্যাথিড্রাল রোডে সভা হলেও রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। উপস্থিতির ক্ষেত্রেও ছিল সীমা, সর্বোচ্চ ১৫০০ জন। দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশও ছিল। কিন্তু সভার মাঝেই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। মমতার এক ইশারায় গাছের তলায় অপেক্ষারত কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ব্যারিকেড পেরিয়ে মঞ্চের দিকে চলে আসেন। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তার একটি অংশ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। থমকে যায় যান চলাচলও।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক কর্মসূচির উচ্ছ্বাস কি আদালতের নির্দেশের ঊর্ধ্বে? সভা, মিছিল, স্লোগান গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ছবি। কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকারও জড়িয়ে থাকে। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় একটি ফ্ল্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে অফিসযাত্রী থেকে রোগী নিয়ে ছোটা অ্যাম্বুল্যান্স সবার উপরেই।
ঘটনার পর শুভেন্দুর কড়া বার্তা, ‘‘ছাড়া হবে না।’’ পুলিশকে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মমতার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তা দখলের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক লড়াই নতুন নয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশ এবং জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ দুটির মাঝখানে রাজনীতি কতটা জায়গা নেবে, ক্যাথিড্রাল রোডের ঘটনা সেই পুরনো প্রশ্নটিকেই আরও এক বার সামনে এনে দিল।





