শিলিগুড়ি, ২৯ আগস্টঃ একটা সময় এই নোটেই বাজার চলত। পাঁচশো-হাজারের সেই নোটের বান্ডিলই এক দিন রাতারাতি হয়ে গিয়েছিল কাগজের টুকরো। সেই ‘অচল’ নোটেরই বান্ডিল নিয়ে ট্রেনে সফর! নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ব্যাগ খুলতেই সামনে এল প্রায় ৮ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক যুবককে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম সন্তোষ কুমার (২৫)। বাড়ি বিহারের মতিহারীতে। যদিও গত সাত বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে অসমের জালুকবাড়িতে থাকেন তিনি। শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এনজেপি স্টেশনে নজরদারি শুরু করে শিলিগুড়ি জিআরপির এসওজি এবং এনজেপি জিআরপির সাদা পোশাকের পুলিশ।
ডাউন সরাইঘাট এক্সপ্রেস ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকতেই জেনারেল কামরায় শুরু হয় তল্লাশি। যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যেই এক যুবকের আচরণে সন্দেহ হয় পুলিশের। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর পরেই পিঠের ব্যাগে তল্লাশি। আর সেখানেই একের পর এক বান্ডিল পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, গুয়াহাটি থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন সন্তোষ। পুলিশের দাবি, সেখানেই তাঁর হাতে ওই নোটের বান্ডিল তুলে দেওয়া হয়। এর পর সেই টাকা নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।
কিন্তু কেন? কার টাকা? এত বছর পরেও বাতিল নোটের এমন বিপুল ভাণ্ডারই বা কোথা থেকে এল? আর কোথায় যাচ্ছিল সেই টাকা? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এর পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেটিও। শনিবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
নোট বাতিলের পর পেরিয়ে গিয়েছে বহু বছর। সাধারণ মানুষের ঘরে পড়ে থাকা পুরনো নোটও কার্যত স্মৃতি। সেখানে ট্রেনের কামরায় ৮ লক্ষের বেশি টাকার বান্ডিল ঘটনাটি তাই শুধু গ্রেফতারের নয়, আরও বড় কোনও রহস্যের দরজাও খুলে দিয়েছে। সেই রহস্যের উত্তর এখন তদন্তকারীদের হাতে।





