নদীয়া, ২৬ মেঃ কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র প্রশাসনিক বৈঠকে মঙ্গলবার দেখা গেল এক বেনজির রাজনৈতিক ছবি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
গত কয়েকদিন ধরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি তিনি তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছাড়েন। তার আগে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ পদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই পদে দায়িত্ব পান বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। এরপরেই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন কাকলি। দলের প্রতি দীর্ঘ চার দশকের আনুগত্যের “পুরস্কার” পেয়েছেন বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। তারপর থেকেই তাঁর দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।
এই আবহেই মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও বৈঠকে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাকলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনও দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং প্রশাসনিক বৈঠক। সেই কারণেই তিনি উপস্থিত হয়েছেন।
শুধু কাকলি ঘোষ দস্তিদারই নন, এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বিনা মণ্ডল, দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান এবং হাড়োয়ার বিধায়ক মহম্মদ আব্দুল মতিন। জানা গিয়েছে, নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনার জন্যই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিদ্ধান্ত নেন যে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের সাংসদ ও বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-র ‘বয়কটের রাজনীতি’র বিপরীত পথে হেঁটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
উল্লেখ্য, ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ। আন্দোলনের ময়দান থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সক্রিয়। বারাসত থেকে টানা তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। তাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপই এখন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।





