ডায়মন্ড হারবার, ১২ জুলাইঃ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প ঘিরে বিতর্কে নতুন মোড়। ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক মহিলার পা বাদ যাওয়ার ঘটনায় এ বার অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। একই মামলায় নাম রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়েরও। অভিযোগ দায়েরের পর ঘটনাটি পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরেও। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী মালতী বিশ্বাস এবং তাঁর পরিবারকে নথিপত্র-সহ ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য শুনে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য দপ্তর।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা এলাকার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের পরিবারের অভিযোগ, হাঁটুর ব্যথার চিকিৎসার জন্য তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেই ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠায় ফের শিবিরে গেলে তাঁকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযোগ, সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁর পায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরে তাঁকে পার্ক সার্কাসের চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল হয়ে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরিবারের দাবি, একের পর এক হাসপাতালে ঘোরার মধ্যে সংক্রমণ এবং শারীরিক জটিলতা এতটাই বেড়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করে তাঁর একটি পা বাদ দিতে হয়।
এই ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল পরিবার। অভিযোগে দাবি করা হয়, বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেবাশ্রয় কর্তৃপক্ষ বা সাংসদের দফতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অবশেষে তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ দায়েরের সময় পরিবারের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর পিএ সুমিত রায়ের নামও রয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে।
এ দিকে ঘটনাটি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে স্বাস্থ্যভবনও। অভিযোগকারী পরিবারকে সমস্ত চিকিৎসার নথি, প্রেসক্রিপশন এবং হাসপাতালের কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা প্রশাসনিক স্তরেও খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর দফতরের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্ত এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুসন্ধানের ফলাফলের উপরই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
প্রয়োজনে এটিকে আরও ধারালো, প্রথম পাতার আনন্দবাজার-ধাঁচের লিড বা আরও অনুসন্ধানধর্মী ভঙ্গিতেও রূপান্তর করে দিতে পারি।





