কোচবিহার, ১২ জুলাইঃ বহু বছর ধরে সীমান্তের বিস্তীর্ণ অংশ ছিল কার্যত ‘উন্মুক্ত’। কোথাও কৃষিজমি, কোথাও বসতি, কোথাও আবার নদীপথ সব মিলিয়ে কোচবিহারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ অসম্পূর্ণই থেকে গিয়েছিল। সেই ছবিই বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন ও বিএসএফ। বিশেষ করে মেখলিগঞ্জ ব্লকের প্রায় গোটা সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়ার আওতায় আনতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করে নির্মাণকাজের পথ পুরোপুরি প্রশস্ত করা।
প্রশাসন ও বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বেড়া নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে মোট ২৪০ একর জমি চেয়েছিল বিএসএফ। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৮৫ একর জমি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ৫৫ একর জমি হস্তান্তর বাকি রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে আরও ৫৩ একর জমির আবেদন করেছে বিএসএফ। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১০৮ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা প্রশাসনের সামনে অন্যতম অগ্রাধিকার।
সবচেয়ে বেশি জমির প্রয়োজন মেখলিগঞ্জ ব্লকে। সেখানে প্রায় ১৪৮ একর জমি চেয়েছে বিএসএফ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দিনহাটা–২ ব্লক, যেখানে প্রায় ৫০ একর জমির প্রয়োজন হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই দুই ব্লকের অধিকাংশ জমিই ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করে বা চিহ্নিত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। পাশাপাশি মাথাভাঙা ও তুফানগঞ্জ মহকুমার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও জমি চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য চাওয়া জমির মধ্যে প্রায় ৪০ একর সরকারি জমি রয়েছে। ফলে সেই অংশ হস্তান্তরে বিশেষ আইনি জটিলতার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে, বেসরকারি মালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ও অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ৪২ একর এবং পরে আরও ১০৩ একর জমি ইতিমধ্যেই বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কোচবিহার জেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এখনও পূর্ণাঙ্গ কাঁটাতারের বেড়া নেই। তার একটি বড় অংশ নদীপথ হওয়ায় সেখানে আলাদা নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিএসএফ। তবে যেখানে স্থলপথে সীমান্ত এখনও খোলা রয়েছে, সেই অংশে দ্রুত বেড়া নির্মাণ করাই এখন অগ্রাধিকার।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সেই কারণেই জমি হস্তান্তরের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রশাসন ও বিএসএফ যৌথভাবে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।





