শিলিগুড়ি, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ ফোনের ওপারে পাত্র-পাত্রীর ছবি, বিস্তারিত পরিচয় আর ‘ভাল সম্বন্ধ’-এর প্রতিশ্রুতি। কথার ফাঁদে পা দিয়ে টাকা পাঠানোর পরই উধাও যোগাযোগ! ম্যাট্রিমনি সংস্থার নাম ব্যবহার করে এ ভাবেই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে শিলিগুড়িতে। ঘটনায় এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে এনজেপি থানার পুলিশ। আরও দুই তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শিলিগুড়ির শক্তিগড় ৫ নম্বর রাস্তার একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই তিনজনকে আটক করা হয়। পরে কাকলি বিশ্বাস নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কাকলি বিহারের বাসিন্দা। আটক দুই তরুণী শক্তিগড় এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, একটি পরিচিত ম্যাট্রিমনি সংস্থার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হত। পাত্র বা পাত্রীর ছবি, ফোন নম্বর এবং বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। সেই সূত্রে কখনও রেজিস্ট্রেশন, কখনও তথ্য দেওয়ার খরচ বা অন্য কোনও কারণ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া হত বলে অভিযোগ।
কিন্তু টাকা পাওয়ার পরেই বদলে যেত ছবিটা। পুলিশের দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাত্র-পাত্রীর ছবি বা তথ্য আর দেওয়া হত না। যোগাযোগ করাও বন্ধ করে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। এই ভাবে কতজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, মোট কত টাকা লেনদেন হয়েছে, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে যে ম্যাট্রিমনি সংস্থার নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটির সঙ্গে ধৃতদের আদৌ কোনও সম্পর্ক ছিল কি না। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সংস্থার মালিকদেরও খোঁজ শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আর্থিক লেনদেনের নথি, ফোনে যোগাযোগের তথ্য এবং ব্যবহৃত মোবাইল-সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আটক দুই তরুণীর ভূমিকাও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।
শুক্রবার কাকলি বিশ্বাসকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড চায় এনজেপি থানার পুলিশ। প্রতারণার এই চক্রের পরিধি কতটা, আর এর নেপথ্যে আরও কারা রয়েছেন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।





