বিষ্ণুপুর, ৬ অক্টোবর: এক সময় পঞ্চায়েতের প্রধান। পরে একের পর এক মামলায় নাম জড়ায়। ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই ছিলেন ‘ফেরার’। দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে গ্রেফতার তৃণমূলের সেই নেতা ভোলা সর্দারকে সোমবার এলাকায় নিয়ে এল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের পানাকুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে নেপালগঞ্জ বাজার এলাকায় পুলিশি পাহারায় হাঁটানো ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা, ভয় দেখিয়ে জমি দখল, গণধর্ষণ-সহ মোট ন’টি মামলায় অভিযুক্ত ভোলা। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ভিন্জেলায় গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে খবর পায় পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর আদালতে তোলা হলে ভোলাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এর পর সোমবার তাঁকে নেপালগঞ্জ বাজার এলাকায় নিয়ে যায় বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। পুলিশি ঘেরাটোপে রাস্তায় তাঁকে হাঁটানো হয়। ঘটনাটি দেখতে রাস্তার পাশে ভিড় জমে যায় স্থানীয়দের। শুরু হয় গুঞ্জনও।
ভোলার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির মধ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা, জমি দখল এবং গণধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগগুলি প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনত তিনি অভিযুক্তই। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় মামলাগুলির তদন্তে বেশ কিছু তথ্য ও নথি সংগ্রহ করা বাকি রয়েছে। সেই কারণেই পুলিশ হেফাজতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য, তাঁকে এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। মামলাগুলির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে তাঁকে নিয়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনো একাধিক মামলায় অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে। নতুন সরকারও আইনভঙ্গের ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে বার্তা দিয়েছে। সেই আবহেই পানাকুয়ার পঞ্চায়েত প্রধান ভোলা সর্দারের গ্রেফতারি এবং তাঁকে এলাকায় নিয়ে আসার ঘটনা ফের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।




