কলকাতা, ১০ অক্টোবরঃ আপৎকালীন পরিস্থিতিতে পুলিশের সাহায্য পেতে আর দীর্ঘ অপেক্ষা নয়। একটি ফোনেই যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে পুলিশ, সেই লক্ষ্যেই মহালয়ার দিন রাজ্যে চালু হল ১১২ জরুরি পরিষেবা। একই সঙ্গে পুলিশের বহরে যুক্ত হল ৪৫০টি গাড়ি ও মোটরবাইক। প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও দ্রুততর করার বার্তা দিয়ে পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, রাজ্যের প্রতিটি থানার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে একটি করে গাড়ি ও মোটরবাইক। পুলিশের গায়ে হাত তুললে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
পুলিশমন্ত্রী হওয়ার পর গত পাঁচ মাস ধরে রাজ্যের পুলিশি ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করেছেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে জরুরি নম্বরে ফোন করেও অনেক সময় সাড়া মিলত না। সেই পরিস্থিতি বদলাতে কন্ট্রোল রুম থেকে ট্র্যাফিক ব্যবস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোটা রাজ্যে লাইভ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা চালুর কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের হাতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মী তুলে দেওয়ার উপরেও জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জনসংখ্যার অনুপাতে রাজ্যে পুলিশের সংখ্যা এখনও তুলনামূলক কম। তাই নিয়োগ এবং আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা জরুরি। পুলিশে নিয়োগের জট কাটাতে আইন সংশোধনের কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, পুজোর আগে ১১ হাজারের বেশি নতুন কনস্টেবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার নিজের হাতে তাঁদের নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ১৫০০ চালক নিয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন পুলিশমন্ত্রী।
এ দিনের অনুষ্ঠানে পুলিশের উপর হামলার প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু। পার্কস্ট্রিটের ঘটনার উল্লেখ করে তাঁর হুঁশিয়ারি, পুলিশের গায়ে হাত তুললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বীরভূমে পুলিশি অভিযানের সাফল্যের কথাও তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, অপরাধ দমনে রাজ্য পুলিশের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।
আরজি কর ও বারুইপুরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের কারবারের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশমন্ত্রী।
জরুরি পরিষেবা থেকে নিয়োগ, যানবাহন বৃদ্ধি থেকে অপরাধ দমন সব ক্ষেত্রেই পুলিশি ব্যবস্থার খোলনলচে বদলানোর প্রতিশ্রুতি দিল রাজ্য সরকার। তবে নতুন ১১২ পরিষেবা কত দ্রুত ও কার্যকর ভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়, তার প্রমাণ মিলবে বাস্তব প্রয়োগেই।





