খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালে বড়সড় স্বস্তি মিলল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থীর। ‘বিচারাধীন’ তকমা ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অবশেষে কাটল নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা অতিরিক্ত ভোটার তালিকার মাধ্যমে। সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আর কোনও আইনি জটিলতা রইল না তৃণমূল ও বিজেপির বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সামনে।
এই সংশোধিত তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে পেয়েছেন জাকির হোসেন, বায়রন বিশ্বাস এবং কলিতা মাজি। ফলে তাঁদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পথ পরিষ্কার হল। এর আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় তাঁদের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন শশী পাঁজা-র মতো নেতারাও। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম ‘বিচারাধীন’ থাকলে প্রার্থী হলেও মনোনয়ন জমা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না, যা নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারত।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এই তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি শুনানিতেও অংশ নেন। সেই ভিত্তিতেই কমিশন তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার রাত থেকেই তালিকা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয় এবং মধ্যরাত পেরোতেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরের দিন সকালেই বুথ স্তরে গিয়ে তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়।
এই ঘটনার ফলে রাজনৈতিক অঙ্কে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে ভোটের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দলগুলির কাছে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন আর আইনি জটিলতার ভয় ছাড়াই প্রার্থীরা নির্বাচনী ময়দানে নামতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সামান্য জটিলতাও কীভাবে বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও নির্বাচন যত এগোবে, ততই এই ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং তার প্রভাব নিয়ে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।





