শিলিগুড়ি, ২৬ অক্টোবরঃ পাহাড়ের লোকশিল্প, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নানা রং মিলেমিশে একাকার হবে কালীপুজোর মণ্ডপে। শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার বিবেকানন্দ ক্লাবের ৭৯তম বর্ষের পুজোয় এ বার দর্শনার্থীদের জন্য এমনই চমক অপেক্ষা করছে। সোমবার ক্লাব প্রাঙ্গণে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হল প্রস্তুতি। উদ্যোক্তাদের আশা, নর্থ ইস্টের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি মণ্ডপ এ বারও শিলিগুড়ির কালীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
শহরের প্রাচীন ও বড় বাজেটের কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম বিবেকানন্দ ক্লাবের পুজো। এ বার মণ্ডপসজ্জার মূল ভাবনায় উঠে আসছে সিকিম, নেপাল ও তিব্বত-সহ পার্বত্য অঞ্চলের লোকশিল্প, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি। পাহাড়ি জনজীবনের শিল্পসত্তাকে মণ্ডপের পরতে পরতে ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন উদ্যোক্তারা। তবে দর্শনার্থীদের আগ্রহ ধরে রাখতে আপাতত থিমের নাম প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না তাঁরা।
এবারের মণ্ডপ তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত কলকাতার শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলা। মণ্ডপের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে প্রতিমা। সঙ্গে থাকবে নজরকাড়া আলোকসজ্জা। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে মণ্ডপ তৈরিতে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ জন কর্মী এই কাজে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
হাকিমপাড়ার বিবেকানন্দ স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এক সময়ে এই পুজোয় বলিউডের পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল। বর্তমানে পুজোর জন্য জায়গা ক্রমশ সীমিত হয়ে এলেও জৌলুস ও আকর্ষণ ধরে রাখতে সচেষ্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, ঐতিহ্য বজায় রেখেই প্রতি বছরের মতো এ বারও দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।
পুজোকে কেন্দ্র করে সামাজিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে। তবে এ বার নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ প্রশস্ত রাখা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন এবং পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। দর্শনার্থীদের অযথা ব্যারিকেডে আটকে না রেখে যাতে তাঁরা স্বচ্ছন্দে মণ্ডপ দর্শন করতে পারেন, সে দিকেও নজর দেওয়া হবে।
আগামী ৭ নভেম্বর রামকৃষ্ণ মিশনের এক মহারাজের হাত ধরে মণ্ডপের উদ্বোধন হওয়ার কথা। সোমবারের খুঁটিপুজোয় উপস্থিত ছিলেন শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলা, কালীপুজোর যুগ্ম সম্পাদক গোবিন্দ বণিক ও সুভাষ বসাক, সৌরভ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক নিলয় চক্রবর্তী-সহ ক্লাবের অন্য সদস্যেরা।
পাহাড়ি ঐতিহ্য, লোকশিল্প ও আধুনিক মণ্ডপসজ্জার মেলবন্ধনে এবারও দর্শনার্থীদের মন জয় করতে আশাবাদী বিবেকানন্দ ক্লাব।





