কলকাতা, ২৬ অক্টোবরঃ জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াইয়ে নতুন মোড়। নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়ার শেষ দিনেই কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ তুললেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন তিনি। তাঁর দাবি, হরিয়ানায় তাঁদের কর্মীদের নিয়ে যাওয়া নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন দলের কর্মীরা। অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে কালীঘাট শিবির।
ঋতব্রতর দাবি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে দিল্লিতে নথি পাঠিয়েছে। অন্য দিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের কর্মীরা শনিবার, ২৪ অক্টোবর, সড়কপথে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক কটাক্ষের অস্ত্র করে ঋতব্রতর মন্তব্য, চার্টার্ড বিমানের সংস্কৃতি ও তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে যেন লড়াই বেধেছে। তাঁর বক্তব্য, গায়ের জোরে সব কিছু দখল করার চেষ্টা সব সময় সফল হয় না।
অভিযোগ ঘিরে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে কালীঘাট শিবিরও। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর কটাক্ষ, ওই শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। কয়েক জন বিধায়ককে টেনে নিয়ে গিয়ে দল চালানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি, নথি লুট করতে যাওয়ার অভিযোগকে অবান্তর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কুণাল। তাঁর দাবি, দুই পক্ষের জমা দেওয়া তথ্য যাচাই হলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
তৃণমূলের ভাঙনের পর থেকেই দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন চলছে। গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছিল ফুটবলার প্রতীক, আর ঋতব্রতর গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রতীক ছিল খাম। কিন্তু দলের পুরনো পরিচয়, অর্থাৎ ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে বিরোধ মেটেনি।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় নথি ও চূড়ান্ত হলফনামা জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফলে প্রতীকের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করতে দুই শিবিরের কাছেই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করল। এখন দেখার, দুই পক্ষের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং জোড়াফুলের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।





