তমলুক, ২৬ অক্টোবরঃ বিধানসভা জয়ের পর এ বার পুরসভা দখলের লড়াই। লক্ষ্য একটাই হলদিয়ার ৩০টি আসনেই বিজেপির জয়। আসন্ন পুরভোটকে সামনে রেখে সোমবার তমলুক থেকে দলীয় কর্মীদের কার্যত সেই লক্ষ্যমাত্রাই বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তাঁর হুঁশিয়ারি, হলদিয়ায় তৃণমূলকে কোনও আসনেই জিততে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক লড়াইয়ের সুর চড়িয়ে শুভেন্দুর বার্তা, “বউনি করতে দেব না। লিখে রাখুন আমার নাম করে। জনগণ আমার সঙ্গে আছে।”
সোমবার তমলুক সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই আসন্ন হলদিয়া পুরসভা নির্বাচনে ৩০টি আসনেই জয়ের ডাক দেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, গোটা জেলার কর্মীদের একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “একদম শূন্য করে দিতে হবে ৩০টি আসনেই। একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খালি হাতে পাঠাতে হবে।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তাঁর অভিযোগ, অতীতে দলটি অনেক ক্ষতি করেছে। ভবিষ্যতে যাতে সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে হবে।
শুধু হলদিয়া নয়, আগামী দিনের সব নির্বাচন নিয়েও আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যে পরবর্তী নির্বাচনগুলিতেও ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পাবে বিজেপি। তবে হলদিয়ার ৩০টি আসনেই জয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সংগঠনের শক্তি, বুথস্তরের প্রস্তুতি এবং স্থানীয় জনসমর্থন ধরে রাখাই বিজেপির কাছে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
এ দিনের সভা থেকে তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে নিশানা করে তাঁর দাবি, দল ও জনপ্রতিনিধিদের ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর বক্তব্য, বিধানসভায় ৮০ জন বিধায়ক জেতানোর পরেও তাঁদের ধরে রাখতে না পারার দায় তাঁর নয়। একই ভাবে ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনকে ধরে রাখতে না পারার প্রসঙ্গ তুলেও মমতাকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, আগে নিজের দল সামলানো উচিত, তার পরে বিজেপিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেও মমতাকে বিঁধেছেন শুভেন্দু। ফিরহাদের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ফিরহাদ কি বিজেপির নেতা বা মুখপাত্র? এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের অন্দরের মতপার্থক্যকেই রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে হলদিয়া পুরভোটকে ঘিরে এখন থেকেই প্রচারের সুর চড়াতে চাইছে বিজেপি। ৩০টি আসনেই জয়ের ডাক দিয়ে শুভেন্দু কর্মীদের সামনে কঠিন লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। এবার সেই রাজনৈতিক হুঙ্কারকে ভোটের বাক্সে কতটা সাফল্যে পরিণত করতে পারে গেরুয়া শিবির, নজর থাকবে সেদিকেই।





