নন্দীগ্রাম, ৯ অক্টোবরঃ নন্দীগ্রাম থেকে রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই বিপুল জয় বিজেপির। উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের এই সাফল্য। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ জিতেছেন ১ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি ভোটে। অন্যদিকে, রেজিনগরে ৭২ হাজার ৭১০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। দুই কেন্দ্রের ফলেই স্পষ্ট, ব্যবধানের নিরিখে বড়সড় বার্তা দিতে পেরেছে বিজেপি।
নন্দীগ্রামের ফলের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই ৮১ হাজার ২৩০ ভোটে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারালেও জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৫৬ ভোট। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়ের ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ৬৬৫। এ বার সেই হিসাবকেও বহু দূরে পিছনে ফেলে দিলেন হাসিরানি। শুভেন্দুর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানির এই জয় তাই শুধু আসন ধরে রাখার লড়াই নয়, ব্যবধানের নিরিখেও নজিরবিহীন।
রেজিনগরেও বিজেপির জয় উল্লেখযোগ্য। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর নওদা ও রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন। পরে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হয়। সেই আসনে বিজেপির শাখারভ সরকারের বড় ব্যবধানের জয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে।
দুই কেন্দ্রের ফল নিয়ে আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল, তৃণমূল ও বামেরা কোথাও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না। সংখ্যালঘু, মহিলা ও যুব ভোটের সমর্থন পাওয়ার বিষয়েও আশাবাদী ছিলেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোটে প্রভাব ফেলেছে বলেও দাবি করেছিলেন শুভেন্দু।
ভোটপ্রক্রিয়া, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মধ্যেই এই ফল প্রকাশ্যে এল। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জয় শুধু উপনির্বাচনের ফল নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়েও নতুন মাত্রা যোগ করল।





