খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ ফেব্রুয়ারিঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাংলায় ভোট হবে কত দফায় তা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে এল নির্বাচন কমিশনের অন্দরকার মতবিরোধ। এক দফায় ভোট করানোর পক্ষে সওয়াল করছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দপ্তর। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পর্যাপ্ত লোকবল ও আধাসেনার অপ্রতুলতার যুক্তি তুলে ধরে তিন অথবা চার দফায় ভোট করানোর পক্ষে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এক দফায় ভোট করানো হলে হিংসার আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকে। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় আধাসেনা পাওয়া গেলে এক দফায় ভোট করাতে কোনও প্রশাসনিক সমস্যা নেই। সিইও দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, “আগেও এই রাজ্যে এক দফায় ভোট হয়েছে। এক দফায় ভোট হলে অসুবিধার কিছু নেই। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের নির্বাচন কমিশনই। কমিশনের একটি অংশের মতে, বাংলার মতো বড় ও রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর রাজ্যে এক দফায় ভোট করানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সব বুথে পর্যাপ্ত আধাসেনা মোতায়েন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। ফলে বুথ দখল বা হিংসার ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কমিশনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই দফার সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে অতিমারীর আবহে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, ৩৯ লোকসভার তামিলনাড়ুতে যদি এক দফায় ভোট হতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গে কেন আট দফা প্রয়োজন।
এর আগে ২০১৬ সালে রাজ্যে সাত দফায় এবং ২০১১ সালে ছ’দফায় ভোট হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯৬ সালে শেষবার বাংলায় এক দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়, যখন লোকসভা ও বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হয়েছিল।
এদিকে সম্প্রতি বিহারে এক দফায় বিধানসভা ভোট করিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই নজির তুলে ধরেই এক দফার দাবিতে অনড় রাজ্যের সিইও দপ্তর। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত বাংলায় ভোটের দফা সংখ্যা কোন পথে এগোয়।





