রেজিনগর, ৬ অক্টোবর: ভোট শুরু হওয়ার আগেই উত্তপ্ত রেজিনগর। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। আর ভোটের শুরুতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ তুললেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীর। স্বপরিবারে নিজের বুথে ভোট দিতে যাওয়ার সময় তাঁর অভিযোগ, সকাল থেকেই তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। ভোট দিয়ে বেরিয়েও পুলিশকে নিশানা করে সরব হন তিনি।
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন। পরে নওদা আসন রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। এ বার এই কেন্দ্রে তাঁর দলের প্রার্থী তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। ফলে ভোটের লড়াইয়ে হুমায়ুনের রাজনৈতিক উপস্থিতিও বিশেষ নজরে রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে হুমায়ুনের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই তাঁর বাড়ির চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজের বুথে গিয়ে ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে ফের পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন এজেইউপি প্রধান। তাঁর দাবি, ‘‘সকাল থেকেই পুলিশের মদতে ভোট লুট হচ্ছে।’’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আরও কড়া ভাষায় অভিযোগ তোলেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, পুলিশের একাংশ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোট করাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভোটের পরিবেশ নিয়ে তাঁর বক্তব্যের পরই রেজিনগরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়।
শুধু পুলিশ নয়, উপনির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও অভিযোগ জমা পড়েছে। কংগ্রেসের তরফে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মোট ১২টি অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি। কমিশন অবশ্য অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখছে।
রেজিনগরে এ বার মোট ভোটার ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৫৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬৩৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন পাঁচ জন। ভোটের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। এখন নজর ৯ অক্টোবরের ফলাফলে। তবে তার আগে ভোটের দিন রেজিনগরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি যে নতুন মাত্রা পেল, তা স্পষ্ট।



