আবদুল হাই, বাঁকুড়া: নতুন বছরের শুরু মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা ও আত্মশুদ্ধির এক পবিত্র সুযোগ। সেই সুযোগকে আরও অর্থবহ করে তুলতে বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনেই পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার জয়রামবাটিতে মা সারদা দেবীর মাতৃ মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামল। ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে উপচে পড়ে ভক্তসমাগম। মা সারদা দেবীর জন্মভূমি জয়রামবাটি নতুন বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে পরিণত হয় এক গভীর আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে।
ভোররাত থেকেই শুরু হয় মন্দিরে পূজা-অর্চনা। দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা কেউ মানত পূরণের উদ্দেশ্যে, কেউ প্রার্থনারত হৃদয় নিয়ে, আবার কেউ নিছক মানসিক শান্তি ও আশীর্বাদ লাভের আশায় মা সারদা দেবীর চরণে মাথা নত করেন। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের মুখে ছিল আশা ও বিশ্বাসের ছাপ। মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে ধূপ-ধুনোর সুবাস, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তিমূলক স্তোত্রে সৃষ্টি হয় এক অপার্থিব পরিবেশ।
মন্দির কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা করা হয়। নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বহু ভক্ত জানান, নতুন বছরের প্রথমে জয়রামবাটিতে কাটাতে পারা তাঁদের কাছে পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তাঁদের বিশ্বাস, এই পবিত্র ভূমিতে মা সারদা দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে বছর শুরু করলে সারা বছর জুড়ে জীবনে শান্তি ও স্থিরতা বজায় থাকে।
মা সারদা দেবীর জীবনদর্শন সহনশীলতা, করুণা, সরলতা ও মানবপ্রেম আজও মানুষের জীবনে অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি শিখিয়েছেন সকলকে আপন করে নেওয়ার শিক্ষা, অহংকার ত্যাগ করে মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার পথ। নতুন বছরের প্রথম দিনে তাঁর স্মরণে জয়রামবাটিতে উপস্থিত হয়ে ভক্তরা যেন নতুন করে এই মূল্যবোধগুলোকে জীবনে ধারণ করার শপথ নেন।
এই দিনে জয়রামবাটি কেবল একটি তীর্থস্থান হিসেবেই নয়, বরং নতুন জীবনের প্রেরণা ও আত্মিক শক্তি সঞ্চয়ের এক পবিত্র ঠিকানা হিসেবে উঠে আসে। ভক্তদের বিশ্বাস, মা সারদা দেবীর আশীর্বাদই তাঁদের নতুন বছরকে করবে শান্তিময়, মানবিক ও কল্যাণময়।





