নিজস্ব সংবাদদাতা, ২১ জুলাইঃ নিজেদের টাকায় টিকিট কাটতে চান তাঁরা। সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের সুবিধা নিতে অনীহা একাংশ কর্মজীবী মহিলার। সেই আপত্তির সুর পৌঁছে গিয়েছে নবান্নে। এ বার সরকারি বাসে ভাড়া দিতে ইচ্ছুক মহিলা যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার কসবার পরিবহণ ভবনে ৫০টি নতুন পরিবেশবান্ধব সরকারি বাসের উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি বাসে মহিলা যাত্রীদের বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরেও বহু মহিলা স্বেচ্ছায় ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে চাইছেন। তাঁদের বক্তব্য, নিজেদের উপার্জনের অর্থে সরকারি পরিষেবার মূল্য দিতে চান তাঁরা। সেই মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়েই বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর কথায়, ‘‘মা-বোনদের জন্য সরকারি বাসে ভাড়া মকুব করেছি। কিন্তু শুনছি, অনেকেই টিকিট কেটেই যেতে চান। কেউ কেউ বলছেন, তাঁরা মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকা রোজগার করেন, তাই বিনামূল্যের পরিষেবা নিতে চান না। তাঁদের জন্য একটা বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।’’
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ‘পিংক স্মার্ট কার্ড’ দেখালেই সরকারি বাসে আর কোনও ভাড়া দিতে হয় না। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পে প্রতিদিন লক্ষাধিক মহিলা উপকৃত হচ্ছেন। তবে এরই মধ্যে সামনে এসেছে অন্য ছবিও। একাংশ কর্মজীবী ও স্বনির্ভর মহিলা মনে করছেন, সরকারি পরিষেবার জন্য নির্ধারিত ভাড়া নিজেরাই দিতে চান। আবার কোথাও কোথাও অভিযোগ উঠেছে, ভাড়া না নেওয়ার কারণে কিছু বাস নির্দিষ্ট স্টপেজে মহিলা যাত্রীদের তুলতে অনীহা দেখাচ্ছে। যদিও পরিবহণ দপ্তরের তরফে এমন অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি।
এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কারণ, সরকার প্রথমবার স্বীকার করল যে, এক নীতির মধ্যে সব যাত্রীর চাহিদা মেলে না। ফলে যাঁরা বিনামূল্যের সুবিধা নিতে চান না, তাঁদের জন্য স্বেচ্ছায় টিকিট কেটে যাতায়াতের সুযোগ রাখা হতে পারে।
এ দিন পরিবহণ ভবন থেকেই শহরের রাস্তায় নামানো হয় আরও ৫০টি পরিবেশবান্ধব বাস। এর মধ্যে ৪৩টি সিএনজি এবং ৭টি ব্যাটারিচালিত। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গণপরিবহণকে আরও আধুনিক, দূষণমুক্ত ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে আগামী দিনেও এই ধরনের বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।





