কলকাতা, ৩১ জুলাইঃ বর্ধমান থেকে জইশ-ই-মহম্মদের সন্দেহভাজন সদস্য হামিদ মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, জইশ-ই-মহম্মদের নজরে শুধু তিনি নন, রাজ্যের আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক মন্ত্রীর নামও উল্লেখ করেন তিনি। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এর বেশি কিছু বলতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তদন্তে উঠে আসা তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা ঠিক হবে না। তবে জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য নিশানায় একাধিক ভিআইপি রয়েছেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের নামও তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও কী ধরনের তথ্য বা কোন প্রেক্ষিতে তাঁর নাম এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থার হাতে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে হামিদ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য এসটিএফের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চলাফেরা সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সূত্র ধরেই সম্ভাব্য নাশকতার ছক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করাই উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, হামিদ মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর যোগাযোগ, সম্ভাব্য সহযোগী এবং নাশকতার পরিকল্পনার পরিধি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, তিনি একাই কাজ করছিলেন, নাকি বৃহত্তর কোনও জঙ্গি নেটওয়ার্কের হয়ে এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
বর্ধমানে এই গ্রেপ্তারির পর রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংবেদনশীল স্থানের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে গোয়েন্দা মহল।





