নয়াদিল্লী, ১১ অক্টোবরঃ দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর আগেই গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি পেয়ে এ বার সরাসরি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। তাঁর দাবি, ঘটনাটি নিছক আটক বা গ্রেফতার নয়, কার্যত ‘অপহরণ’। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, ভারতে গণতন্ত্র ক্রমশ একনায়কতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ নিজের বাড়ি থেকে ধ্রুবকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ছিল সেদিন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ অনিয়ম এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল দলটি। বিদেশে থাকলেও সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন ধ্রুব।
শনিবার গভীর রাতে মুক্তির পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইউটিউবার। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী বলেও দাবি করেন তিনি। পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে কড়া ভাষা প্রয়োগ করে ধ্রুব বলেন, এ ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক দেশে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যদিও তাঁর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এখানে স্পষ্ট নয়।
বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়
ধ্রুব একা নন। শনিবার সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ ওঠে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমান থেকেই আটক করা হয় বলে অভিযোগ। এ ছাড়াও একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। পরে অভিজিৎ-সহ তিন সিজেপি নেতাকে আদালতের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়।
আন্দোলন থামবে কি?
বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং যাতায়াতে বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে সিজেপির দাবি, নেতাদের আটক করলেও আন্দোলন থামানো যাবে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে দলটি।
তবে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়া তিন নেতার ক্ষেত্রে আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্ত রয়েছে। সেই শর্তের মধ্যে থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী ভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর। ধ্রুব রাঠীর অভিযোগ এবং পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি, এসআইআর ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাতও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।





