খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৮ মেঃ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে। সব ঠিক থাকলে আজই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার কথা ছিল অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের। তাঁর শপথগ্রহণ ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল চেন্নাই জুড়ে। হাজার হাজার টিভিকে সমর্থক নিজেদের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে দেখতে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সেই সমস্ত পরিকল্পনায় আপাতত জল ঢেলেছে রাজভবনের অবস্থান।
সূত্রের খবর,তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএনরবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি ছাড়া তিনি কোনওভাবেই বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ করাবেন না। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে জটিলতা।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চমক দিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজয়ের দল টিভিকে। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় তাঁদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। পরে কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন জানানোয় বিজয়ের পক্ষে বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩। কিন্তু এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পাঁচ আসন দূরে রয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, এই ঘাটতি পূরণে ইতিমধ্যেই সিপিআই, সিপিএম এবং বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচি-র সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে টিভিকে নেতৃত্ব। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দল আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের চিঠি দেয়নি। ফলে সরকার গঠনের অনিশ্চয়তা কাটছে না।
এর মধ্যেই ১১৩ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়েই সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে দু’বার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন বিজয়। কিন্তু রাজ্যপাল নিজের অবস্থানে অনড়। টিভিকের অভিযোগ, দিল্লির নির্দেশেই ইচ্ছাকৃতভাবে শপথগ্রহণ আটকে রাখা হচ্ছে। দলের বক্তব্য, সংবিধান অনুযায়ী কোনও দল বা জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে একক বৃহত্তম দলকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হয় বিধানসভায়, রাজভবনে নয়।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে টিভিকে। তাঁদের দাবি, রাজ্যপালের অবস্থান সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সরকার গঠনে সরাসরি সমর্থন না করলেও রাজ্যপালের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম এবং ভিসিকের মতো তামিল দলগুলি। ডিএমকের এক নেতা বলেন, “রাজ্যপাল যা করছেন তা সংবিধান ও তামিল অস্মিতার বিরোধী।”
অন্যদিকে কংগ্রেসও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যেই বিজয় শিবিরে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভিসিকে নেতৃত্ব সমর্থনের বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। সেই সমর্থন মিললে বিজয়ের পক্ষে বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে ১১৭-তে পৌঁছতে পারে। যদিও তাতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার থেকে এখনও এক ধাপ দূরেই থাকবেন তিনি।





