মুর্শিদাবাদ, ৮ মেঃ বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নওদা এবং রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। ভোটের আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, জিতলে দুটি আসনের মধ্যে একটি ছেড়ে দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পদত্যাগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রেজিনগরে আয়োজিত এক কর্মীসভা থেকেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ । সভামঞ্চ থেকেই হুমায়ুন ঘোষণা করেন, আসন্ন উপনির্বাচনে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে তাঁর দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হবেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকের মতে, রেজিনগরে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব অটুট রাখতেই ছেলেকে সামনে আনছেন হুমায়ুন। অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের একাংশের দাবি, এলাকায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতেই নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দিতে চাইছেন তিনি।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন হুমায়ুন কবীর। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মুর্শিদাবাদের নওদা এবং রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হন। ভোটের ফল প্রকাশের আগেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, তিনি দু’টি আসনেই জয়ী হবেন এবং পরে একটি আসন ছেড়ে দেবেন।
ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, তাঁর দাবি বাস্তবেও মিলেছে। নওদা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মুমতাজকে ২৭ হাজার ৯৪৩ ভোটে পরাজিত করেন তিনি। অন্যদিকে রেজিনগরে তৃণমূলের আতাউর রহমানকে ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন।
বৃহস্পতিবারের সভায় হুমায়ুন বলেন, “রেজিনগরের মানুষ আমাকে ভালোবেসে বিপুল ভোটে জয়ী করেছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আগেই বলেছিলাম, একটি আসন ছাড়ব। সেই কথা রেখেই আমি রেজিনগর আসন ছাড়ছি।”
তাঁর এই ঘোষণার পর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশ হুমায়ুনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, অন্য অংশের মতে, রেজিনগরে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই দলের মূল শক্তি ছিল। এখন উপনির্বাচনে সেই সমর্থন কতটা বজায় থাকে, সেটাই দেখার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজিনগরের উপনির্বাচন এখন মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষত হুমায়ুনের ছেলে প্রথমবার ভোটের ময়দানে নামলে সেই লড়াই যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।





