কলকাতা, ৮ মেঃ শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ-কে গুলি করে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যমগ্রামে। বুধবার রাতে দোহাড়িয়া এলাকায় দুষ্কৃতীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে গাড়ি করে দোহাড়িয়া লেন দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে একটি চারচাকা গাড়ি তাঁদের পথ আটকায়। এরপর বাইকে করে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়। হামলাকারীদের মাথায় হেলমেট ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক গুলির খোল এবং কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হামলায় ব্যবহৃত সন্দেহভাজন গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যদিও গাড়িতে থাকা শিলিগুড়ির নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
গুরুতর জখম অবস্থায় চন্দ্রনাথ এবং চালক বুদ্ধদেবকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর বুকে দু’টি গুলি লাগে। অন্যদিকে বুদ্ধদেবের বুক, পেট ও হাতে গুলি লেগেছে। তাঁর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির একাধিক নেতা। পরে সেখানে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-ও। হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যা ফ। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ দীর্ঘদিন ধরে মধ্যমগ্রামে থাকতেন। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ভবানীপুর উপনির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছিলেন। পড়াশোনায় মেধাবী চন্দ্রনাথ রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র ছিলেন। পরে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন। সেখান থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে কর্পোরেট ক্ষেত্রেও কাজ করেছিলেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস-ও। দলের তরফে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা চলছে।
অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এটি “ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন”। যদিও তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। বারাসত মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা শমিক ভট্টাচার্য-ও। তিনি বলেন, “এত বড় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড স্থানীয় স্তরের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।





