নিজস্ব সংবাদদাতা, ২০ জুলাইঃ বিধানসভায় বিধায়কদের তোলা এলাকার সমস্যার নিষ্পত্তিতে এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, উল্লেখ পর্বে বিধায়কদের উত্থাপিত প্রতিটি দাবি সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাতে হবে। এরপর আরও সাত দিনের মধ্যে সেই দপ্তরকে জানাতে হবে, দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না। সম্ভব না হলে তার কারণও লিখিতভাবে জানাতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিধানসভা শুধুমাত্র আলোচনার জায়গা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধানেরও অন্যতম মঞ্চ। তাই বিধায়কদের বক্তব্য যেন আর দপ্তরের ফাইলে আটকে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
শুভেন্দু জানান, বিধানসভার সচিবালয় প্রতিটি দাবির তালিকা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেও পাঠাবে। তাঁর ব্যক্তিগত সচিব সেই বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতি তিন মাস অন্তর একটি ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ তৈরি করবেন। কোন দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি হয়নি এবং কেন হয়নি সেই সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত থাকবে। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহি যেমন বাড়বে, তেমনই বিধায়কদের উত্থাপিত সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির পথও খুলবে বলে সরকারের দাবি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। বিধানসভায় তিনি বলেন, অতীতে একাধিক বার বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এমন উদ্যোগ আগে দেখেননি। বিধায়কদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা জানার কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভায় উত্থাপিত জনস্বার্থের বিষয়গুলিকে প্রশাসনিকভাবে ট্র্যাক করার এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সব বিধায়কই উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরে ঝুলে থাকা অভিযোগ ও দাবিদাওয়ার নিষ্পত্তিতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ফলে প্রশাসনের উপর জবাবদিহির চাপও বাড়বে। সরকারও মনে করছে, এর মাধ্যমে বিধানসভা ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে।





