কলকাতা, ৪ আগস্টঃ তড়িঘড়ি নয়, ধাপে ধাপে বদল। রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন সিলেবাস কমিটির প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই সেই বার্তা দিল সরকার। মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বর্তমান পাঠ্যবই বহাল থাকবে। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যক্রম চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, শিক্ষাদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী, শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার, অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সিলেবাস কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথাগত রায়ও।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে আগামী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যসূচিতে বড় কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। নিয়ম মেনে ২ জানুয়ারির ‘বই দিবস’-এর আগেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে ২০২৮ সালের জন্য নতুন কারিকুলামের খসড়া তৈরি করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলির মতামত নেওয়া হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর আলোকে সেমেস্টার ব্যবস্থা, ‘পাস-ফেল’ প্রথা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির মতো বিষয়গুলিও নতুন পাঠ্যক্রমে বিবেচনা করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক বিষয় অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে দীপক বর্মণের বক্তব্য, শিক্ষা হবে ভীতিমুক্ত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং অরাজনৈতিক। সরকারের সিদ্ধান্ত শিক্ষাবিদদের সুপারিশের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। একইসঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথি তথাগত রায়ও পাঠ্যপুস্তককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পক্ষে মত দিয়ে ইতিহাসে উপেক্ষিত মনীষীদের যথাযথ স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান।
২০২৮-কে সামনে রেখে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হলেও, সেই পরিবর্তনের আগে সর্বস্তরের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।





