খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বনগাঁর অনুষ্ঠান বিতর্কে ফের উত্তাপ বাড়ল। জামিনে জেলমুক্তির পর অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী-কে আইনি নোটিস পাঠালেন তনয় শাস্ত্রী। আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মাধ্যমে পাঠানো ওই নোটিসে একাধিক দাবি তোলা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রীর তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আইনি নোটিসে তিনটি মূল দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, অনুষ্ঠানের পারিশ্রমিক হিসেবে মিমিকে ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, রাত সাড়ে ৯টায় পৌঁছনোর কথা থাকলেও তিনি প্রায় দু’ঘণ্টা দেরিতে, সাড়ে ১১টা নাগাদ অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণ দেখিয়ে পারিশ্রমিক ফেরতের দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মিমির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তনয় শাস্ত্রীকে জেল হেফাজতে যেতে হয়েছে, যার ফলে তাঁর মানহানি হয়েছে বলে দাবি। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ধারায় মানহানির মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে তিনি মঞ্চে ওঠেন। রাত ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনিক অনুমতি থাকায় তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি আয়োজকদের। অন্যদিকে, অভিনেত্রীর অভিযোগ ছিল, তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। এই নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করতে গেলে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশকে হেনস্তা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পৃথক মামলাও দায়ের হয়। প্রথমে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে অভিনেত্রীর মামলায় জামিন মিললেও, পুলিশের মামলায় কিছুদিন জেলেই থাকতে হয়। শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারি ওই মামলাতেও জামিন পান তনয়, এবং সেদিনই তিনি জেলমুক্ত হন। এই আইনি নোটিসের পর বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের।





