খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ মার্চঃ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পরিশোধ নিয়ে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে রাজ্য ও সরকারি কর্মীদের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মেটানোর কথা থাকলেও, সেই সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এই খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি কর্মীরা। ইতিমধ্যেই আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে সরকারি অফিসে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার আবেদন জানায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এ। পরে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ প্রথমে মিটিয়ে দিতে হবে। আদালত এই কাজের জন্য ছয় সপ্তাহ সময়ও বেঁধে দিয়েছিল।
\
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই টাকা দিতে পারেনি রাজ্য। বরং অতিরিক্ত ছয় মাস সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্র-র বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ কর্মীদের আইনি অধিকার এবং তা পরিশোধ করতেই হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দু’দফায় মে মাসের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি দিতে হবে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে।বাকি অর্থ কীভাবে ও কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত ইন্দু মালহোত্রা-র নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি।
রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, ডিএ পরিশোধের জন্য ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি কর্মীর নথি যাচাই করতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত বহু তথ্য ডিজিটাল নয়, বরং হাতে লেখা সার্ভিস বুক আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই নথি ডিজিটাইজ করতে সময় লাগছে বলেই দাবি করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মীর ঘাটতি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে রাজ্যের এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নন সরকারি কর্মীরা। সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে কর্মীদের মধ্যে। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।





