কলকাতা, ১২ জুলাইঃ শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অসামঞ্জস্য দূর করতে একাধিক পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দপ্তর। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক, কোথাও আবার শিক্ষক-সংকটে পড়াশোনা ব্যাহত এই বৈষম্য দূর করতে ‘সারপ্লাস’ বা অতিরিক্ত শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ কার্যকর করতে রাজ্যজুড়ে শিক্ষকদের অনলাইন প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষক মহলের একাংশে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলির আশঙ্কা, অতিরিক্ত শিক্ষক সরিয়ে নেওয়ার ফলে বহু পড়ুয়াশূন্য স্কুল কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
স্কুলশিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হবে। ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী প্রতি ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে বহু স্কুলে সেই অনুপাত মানা হচ্ছে না। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষক রয়েছেন, আবার কোথাও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই বৈষম্য দূর করতেই ‘সারপ্লাস’ শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় স্কুলে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষক বণ্টনে ভারসাম্য আসবে এবং পড়ুয়ারা সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ পাবে। তবে বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, পড়ুয়াশূন্য বা কম পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে সেখান থেকে শিক্ষক সরিয়ে নেওয়া হলে গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাঁদের দাবি, এতে বহু স্কুল ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সূত্রের খবর, এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপি শিক্ষক সেলও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে উদ্যোগী হয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে ‘উজ্জীবন চর্চা’ নামে অনলাইন কর্মশালার আয়োজন করেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। শনিবার দপ্তরের সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই কর্মসূচিতে যোগ দেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি বলেন, নতুন শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে দক্ষতা, অনুসন্ধানী মনোভাব, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা।
দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, নতুন শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা, বয়স অনুযায়ী শিক্ষার স্তর নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন শৌচালয়, ভেন্ডিং মেশিন-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পড়ুয়ার স্বাভাবিক প্রতিভা ও সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে। তবে শিক্ষক পুনর্বিন্যাস ও জাতীয় শিক্ষানীতি এই দুই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আগামী দিনে শিক্ষামহলে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।





