শিলিগুড়ি, ৯ জুলাইঃ বর্ষার দাপটে ফের থমকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার ভোরে সেভক কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেল ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং ও সিকিমের গ্যাংটকের সরাসরি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার দু’প্রান্তে জমতে থাকে শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন। পর্যটকদের গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী যান আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
ঘটনার খবর পেয়েই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। ভারী যন্ত্র নামিয়ে ধস সরানোর কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। তবে পাহাড় থেকে মাঝেমধ্যেই পাথর গড়িয়ে পড়ায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দার্জিলিং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছোট গাড়িগুলিকে গজলডোবা–করোনেশন ব্রিজ–মংপং হয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ভারী যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গরুবাথান–মুনসং রুটে। তবে বিকল্প পথেও যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়তে শুরু করায় সেখানে ধীরগতিতে চলছে যান চলাচল।
১০ নম্বর জাতীয় সড়ক উত্তরবঙ্গ, সিকিম এবং কালিম্পংয়ের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান সেতুবন্ধন। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দা এই পথ ব্যবহার করেন। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও এই সড়কের উপর নির্ভরশীল বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে বারবার ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটন থেকে বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ছে।
এদিকে শুধু সেভক নয়, বুধবার রাতেই সিকিমের মেল্লি–জোরথাং সড়কেও ভূমিধস নেমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কামদং থেকে সিংথামগামী রাস্তার একাংশ জল-কাদায় ডুবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল এলাকাতেও নতুন করে ধসের খবর মিলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যেই উত্তরবঙ্গ ও সিকিমজুড়ে পাহাড়ি রাস্তায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।





