কলকাতা, ১০ জুলাইঃ বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তদন্ত এড়ানোর চেষ্টা চলতে পারে না। ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলায় কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় সেই বার্তাই দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তে সহযোগিতা না করলে দেওয়া রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হতে পারে। এমনকি মামলা খারিজ করে জরিমানারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেন অভিষেকের আইনজীবী। জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ জুলাই তিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন।
বেশ কিছুদিন ধরেই ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলায় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন অভিষেক। সিআইডির তলবে একবার হাজিরা দিলেও কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁর যুক্তি ছিল, মন্তব্যটি তাঁরই এ কথা স্বীকার করার পর আলাদা করে কণ্ঠস্বরের নমুনা নেওয়ার প্রয়োজন কী?
সেই যুক্তি শুক্রবার কার্যত খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কখন কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন? সব কিছুরই একটা সীমা থাকা উচিত। বিভিন্ন এজলাসে আলাদা মামলা করে বিষয়টি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’’ বিচারপতি আরও জানান, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তার অন্যতম শর্তই ছিল তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা। সেই শর্ত ভঙ্গ হলে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।
এরপর অভিষেকের আইনজীবী আদালতের কাছে কিছু সময় চান। তিনি জানান, তাঁর মক্কেল মন্তব্যের দায় স্বীকার করেছেন। তবে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ জারির আগে তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে ১৫ জুলাই বিধাননগর আদালতে গিয়ে অভিষেক কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন।
তবে শুনানির শেষে একটি বিশেষ আবেদনও করেন অভিষেকের আইনজীবী। তাঁর আর্জি, নমুনা দিতে যাওয়ার সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ডিম নিক্ষেপের ঘটনা না ঘটে, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। আদালত জানায়, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেবে পুলিশ। ফলে তদন্তে সহযোগিতা নিয়েই আপাতত আদালত ও অভিষেকের আইনি লড়াইয়ের এই পর্বে ইতি পড়ল।





