কলকাতা, ১০ জুলাইঃ জমি দখল থেকে বেআইনি আর্থিক লেনদেন অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ১১৪ পাতার চার্জশিটে ২৬ জন সাক্ষীর বয়ান উল্লেখ করে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এখনও পর্যন্ত তদন্তে অন্তত তিন কোটি টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। তবে এই অঙ্ক আরও অনেক বেশি হতে পারে বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ইডি সূত্রের দাবি, নির্মাণ ব্যবসায়ী, পুলিশকর্মী এবং দুষ্কৃতীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল ও বেআইনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা চালানো হয়েছিল। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের আয় ও সম্পত্তির মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর ঘোষিত আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পত্তির উৎস এখনও সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়নি।
গত মে মাসে কসবার কুখ্যাত সমাজবিরোধী ‘সোনা পাপ্পু’-কে ঘিরে তদন্ত করতে গিয়ে প্রথম শান্তনুর নাম সামনে আসে। তদন্তে উঠে আসে, কলকাতার পাশাপাশি একাধিক জেলায় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ। ইডির দাবি, শান্তনুর প্রশ্রয়েই সোনা পাপ্পু-সহ একাধিক সমাজবিরোধী নির্ভয়ে দখলদারি চালাত। তদন্তে ব্যবসায়ী জয় কামদারের নামও উঠে আসে। অভিযোগ, শান্তনু ও জয় কামদার যৌথভাবে বিভিন্ন জেলায় জমি দখল করে রিয়েল এস্টেট প্রকল্প গড়ে তুলছিলেন। শান্তিনিকেতনে সেই ধরনের আবাসন প্রকল্পেরও খোঁজ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শান্তনু সিনহা বিশ্বাস তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের প্রায় এক মাসের মধ্যেই আদালতে এই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
চার্জশিটে ইডি জানিয়েছে, তিন কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির প্রমাণ ইতিমধ্যেই মিলেছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে। বেআইনি লেনদেনের প্রকৃত অঙ্ক, সম্পত্তির উৎস এবং এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই মামলায় আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।





