কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ বিধানসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি। দুর্গাপুজোর পরেই কলকাতা, হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে তৎপর রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি।
শুক্রবারই সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। ভোটের প্রস্তুতি, বুথ, ভোটকর্মী, ইভিএম, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতা ও হাওড়া-সহ সাত পুরসভায় মোট ৬৩০১টি বুথে ভোট নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং।
পুরভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখন থেকেই ভাবনায় কমিশনের। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি রাজ্য পুলিশ কোন বাহিনী দিয়ে ভোট পরিচালনা করা হবে, তা পরিস্থিতি ও জেলা প্রশাসনের রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টের পরেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করতে পারে কমিশন।
তবে এ বারের পুরভোটের আগে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে আসতে পারে নিরাপত্তার প্রশ্নটিই। বিরোধী আসনে থাকাকালীন পঞ্চায়েত ও পুরভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিল বিজেপি। এখন রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর পুরভোটের নিরাপত্তা নিয়ে কমিশনের অবস্থান কী হয়, সে দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।
এ দিকে, ভোটের প্রস্তুতিতে ইভিএম নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া ইভিএম সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকর্মী নিয়োগের কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কলকাতা ও হাওড়ার ক্ষেত্রে এই নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। হাওড়ায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে পুরভোট হয়নি। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড নেই। ফলে প্রথম দফার এই সাত পুরসভার ভোটের পর বাকি পুরসভাগুলির নির্বাচন নিয়েও কমিশনের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি।





