কলকাতা, ১২ অক্টোবরঃ এবার আদালত চত্বরেও নেশামুক্ত পরিবেশ গড়ার উদ্যোগ! কলকাতা হাই কোর্ট থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা আদালত সর্বত্র সিগারেট, পান ও গুটখার ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়ে প্রস্তাব দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। এই মর্মে জেলা আদালতগুলির বিচারকদের চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। শুধু তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ নয়, আদালতে প্রবেশের নিরাপত্তাবিধি আরও কঠোর করার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগ ঘিরে এবার আলোচনায় আদালত চত্বরের শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তা।
সরকারি জায়গায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। সেই বিধি কার্যকর করার লক্ষ্যেই আদালত চত্বরকে সিগারেট, পান ও গুটখামুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনজীবীদের সংগঠনগুলির মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন প্রধান বিচারপতি। বার কাউন্সিল এবং বার অ্যাসোসিয়েশনকে আলোচনায় বসে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির সিদ্ধান্ত লিখিত ভাবে পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে।
এই প্রস্তাব ঘিরে আইনজীবীদের একাংশের তরফে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য, আদালত চত্বরে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হলে নির্দিষ্ট জায়গায় স্মোকিং জোন বা ধূমপানের জন্য পৃথক স্থান তৈরি করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
অন্য দিকে, আদালতের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আদালতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক ব্যক্তিকে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষা করার ভাবনা রয়েছে। তবে এই ব্যবস্থাও এখনই চূড়ান্ত নয়। বার কাউন্সিল ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনার পর লিখিত মতামত পাওয়ার ভিত্তিতে নির্দেশিকা জারি করার কথা ভাবা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নেশামুক্ত পরিবেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। এবার সেই উদ্যোগের সঙ্গে আদালত চত্বরের স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার প্রশ্নও যুক্ত হল। তবে প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আদালতের দৈনন্দিন কাজকর্মে কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির মতামত এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর। আপাতত চূড়ান্ত নির্দেশিকার অপেক্ষায় আইনজীবী মহল।





