কলকাতা, ২০ জানুয়ারিঃ এসআইআর শুনানি ঘিরে যখন রাজ্যের নানা প্রান্তে উত্তেজনা ও অশান্তির ছবি সামনে আসছে, ঠিক সেই সময়ই মঙ্গলবার এসআইআর–এর শুনানিতে হাজির হলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার মহম্মদ সামি। আগেই তাঁর কাছে শুনানির নোটিস পৌঁছেছিল। তবে বাংলার হয়ে ম্যাচ খেলার ব্যস্ততার কথা জানিয়ে তিনি সময় চেয়েছিলেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিক্রমগড়–যাদবপুরের এসআইআর কেন্দ্রে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হন সামি।
শুনানি শেষে বাইরে বেরিয়ে সামি বলেন, “এসআইআর-কে কখনওই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটা খুব ভাল উদ্যোগ। ডাক পড়লে সবারই আসা উচিত। নাম সংশোধনের বিষয়টা দরকার। যতবার ডাকবে, ততবারই আসব। কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি। সবাই খুব সহযোগিতা করেছেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে জানা গিয়েছিল, এসআইআর ফর্মের নীচের অংশে পার্ট ২০০২–এর লিঙ্ক পূরণ না হওয়ায় সামির নামে নোটিস ইস্যু হয়েছিল। এই বিষয়ে তাঁর বাসস্থান সংশ্লিষ্ট কলকাতা পুরসভার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী দাস জানিয়েছিলেন, “যিনি দেশের হয়ে খেলেন, তাঁকেও শুনানিতে ডাকতে হচ্ছে ভাবতেই খারাপ লাগে। তবে তাঁকে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।”
এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এসআইআর শুনানি ঘিরে অশান্তির ঘটনাও সামনে আসছে। ফরাক্কা ও চাকুলিয়ার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে শুনানি কেন্দ্র ঘিরে তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। নথি জমা দেওয়ার পর রসিদ না পাওয়ার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। শুনানি কেন্দ্রে ভাঙচুর, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ চলে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এর মধ্যেই মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে এসআইআর শুনানিতে ঘটেছে এক বেনজির ঘটনা। নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে দাদুর কবরের মাটি নিয়ে শুনানিতে হাজির হন সালেক নামে এক যুবক। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও বারবার নোটিস পাঠিয়ে গোটা পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই ঘটনায় প্রশাসন ও উপস্থিত সকলেই বিস্মিত হয়ে পড়েন।





