খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা। কার্শিয়াংয়ের ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস-এ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তৃণমূল ভবনে এসে শাসক শিবিরে নাম লেখান তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির প্রতি তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছিল। উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার দাবিতে সরব থাকলেও, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিজেপি কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ।
২০২১ সালে কার্শিয়াং থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হন বিষ্ণুপ্রসাদ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের প্রতি তাঁর মোহভঙ্গ হয়। পৃথক উত্তরবঙ্গ বা পাহাড়ের স্বশাসনের দাবিতে তিনি বারবার সরব হয়েছেন। এমনকি বিধানসভায় এবং বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচিও নিয়েছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে দার্জিলিংয়ে ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থীর দাবিতে বিজেপি ও তৃণমূল দুই শিবিরের বিরোধিতা করে নির্দল প্রার্থী হিসেবেও লড়েছিলেন তিনি। যদিও সেই নির্বাচনে জয়ী হন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা।
এবার দলবদলের পর বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন নীতির অধীনে কাজ করব। বিজেপি বারবার টর্চলাইট দেখিয়ে বলেছে সেটাই সূর্য, কিন্তু বাস্তবে কোনও উন্নয়ন হয়নি।” তাঁর দাবি, গোর্খা জনগণের হয়ে নির্বাচিত হলেও বিজেপির নীতির কারণে তিনি কাজ করতে পারছিলেন না।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পাহাড়ে নিজেদের ভিত মজবুত করতেই বিষ্ণুপ্রসাদকে দলে টানল তৃণমূল। তবে অন্য একটি অংশের মতে, দার্জিলিং পাহাড়ের নির্বাচনী সমীকরণ ভিন্ন এবং এই দলবদল ভোটে বড় প্রভাব ফেলবে না।
এদিকে বিজেপির বিধায়ক শংকর ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “উনি নির্দল হয়ে দাঁড়িয়ে ৭-৮ হাজার ভোটও পাননি। দলে তাঁর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।” সব মিলিয়ে পাহাড় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ছাব্বিশের ভোটে বিষ্ণুপ্রসাদের ভূমিকা কী হবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





