দুর্গাপুর, ৫ আগস্টঃ মাত্র ৩০০ টাকার প্রলোভন। সেই লোভ দেখিয়েই নাবালক পড়ুয়াদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরে। অভিযোগ, সরকারি নথিতে বয়স বদলে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে তিন নাবালকের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
অভিযোগ, দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের তিন পড়ুয়াকে একই স্কুলের এক প্রাক্তন ছাত্র রক্ত দিলে ৩০০ টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখায়। পরে তাদের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক রোগীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে রক্তদান করানো হয় বলে অভিযোগ। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, সরকারি নথিতে নাবালকদের প্রকৃত বয়স গোপন করে তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
ঘটনা জানাজানি হতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্কুলের অধ্যক্ষা দেবযানী বোস জানান, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, একটি সংগঠিত এজেন্ট চক্র নাবালকদের টাকার লোভ দেখিয়ে রক্তদানে প্ররোচিত করছে। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “প্রাপ্তবয়স্ক না হলে রক্তদান করা যায় না। অথচ ৩০০ টাকার লোভ দেখিয়ে নাবালকদের রক্ত নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই চক্রের সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
অন্যদিকে, আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। হাসপাতালের নথি, রক্তদানের প্রক্রিয়া এবং কারা এই কাজে যুক্ত ছিল, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
নাবালকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং রক্ত সংগ্রহের নিয়মাবলি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





